প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 24, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 24 February 2026, 11:06 ইং
ইরানের দোরগোড়ায় বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | এএফপি ও আল-আরাবিয়া
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা বে নৌঘাঁটিতে পৌঁছেছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড। বর্তমানে এটি ইরান সীমান্ত থেকে মাত্র আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। ধারণা করা হচ্ছে, তেহরানকে চাপে ফেলতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই শক্তিশালী রণতরীটিকে এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের দেওয়া কঠোর শর্ত মেনে নতুন করে চুক্তিতে আসুক। এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বাতিল করা, দূরপাল্লার মিসাইলের রেঞ্জ কমানো এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা বন্ধ করা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি এই শর্তগুলো না মানে তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত সোমবার রণতরীটি গ্রিসের দ্বীপে নোঙর করেছে। তবে কৌশলগত কারণে গ্রিসের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা এথেন্সে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজের বহর অবস্থান করছে, তার সাথে এখন যুক্ত হচ্ছে ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’।
সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিশালাকায় রণতরী থাকা বেশ বিরল ঘটনা। এসব রণতরীতে কয়েক ডজন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং হাজার হাজার প্রশিক্ষিত সেনা সদস্য অবস্থান করে। এর আগে গত বছরের জুনে যখন মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছিল, তখনও এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এই সামরিক মহড়া ও অবস্থান সরাসরি যুদ্ধের সংকেত দিচ্ছে নাকি তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনার একটি বড় চাপ, তা সময়ই বলে দেবে। বর্তমানে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ