প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 14 February 2026, 10:04 ইং
নির্বাচনী বিরতি শেষে সচল বেনাপোল: চেনা ছন্দে ফিরল দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর

স্টাফ রিপোর্টার :
নির্বাচনী নির্জনতা কাটিয়ে অবশেষে প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে টানা তিন দিনের স্থবিরতা শেষে আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। ইয়ার্ডে ইঞ্জিনের গর্জন, সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদের ব্যস্ততা আর ট্রাকের দীর্ঘ সারি—সব মিলিয়ে বন্দর এলাকায় ফিরে এসেছে সেই চেনা আমেজ।
নির্বাচনকালীন সরকারি ছুটির কারণে গত তিন দিন বেনাপোল বন্দর ছিল কার্যত অচল। বিশাল ইয়ার্ডে সারিবদ্ধ ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে ছিল নিথর হয়ে, কাস্টমস শেডে ছিল না কোনো কোলাহল। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই স্থবিরতা নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করছিল। তবে আজ সকালে গেট খোলার সাথে সাথেই সেই নীরবতা ভেঙে যায়।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যেই দুই দেশের সীমান্তে বাণিজ্য শুরু হয়েছে। তিনি জানান:
"সকালের প্রথম এক ঘণ্টায় ভারত থেকে ২০টি পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছে এবং বাংলাদেশ থেকে ৫টি ট্রাক ভারতে গেছে। দীর্ঘ ছুটির পর এখন নিয়মিতভাবে সব কার্যক্রম সচল করা হয়েছে।"
সরেজমিনে বন্দরে গিয়ে দেখা যায়, তিন দিনের জমে থাকা কাজ দ্রুত শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বন্দর শ্রমিক ও কাস্টমস কর্মকর্তারা। কেউ পণ্যের চালান মেলাচ্ছেন, কেউবা গুদামে জায়গা খালি করছেন। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, "ছুটির কারণে আমদানিকারকদের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে আমরা দ্রুত কাজ করছি। প্রতিদিন সাধারণত ৫০০ ট্রাক পণ্য আসে এবং প্রায় ২০০ ট্রাক রপ্তানি হয়; আশা করছি দু-এক দিনের মধ্যেই এই চাপ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।"
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বেনাপোল বন্দরের এই পুনরুজ্জীবন কেবল একটি স্থাপনা সচল হওয়া নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো শ্রমিকের জীবিকা এবং দুই দেশের কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য। ট্রাকচালকদের মুখেও দেখা গেছে স্বস্তির হাসি। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে তারা আবার গন্তব্যের পথে পা বাড়িয়েছেন।
তিন দিনের নীরবতা পেরিয়ে শনিবারের এই সকালটি ছিল বেনাপোলের জন্য এক নতুন শুরুর সকাল—চাকার শব্দে, ফাইলের সইয়ে আর বাণিজ্যের পুরোনো ছন্দে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ