প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 01 February 2026, 02:20 ইং
প্রতিরক্ষা ও মিসাইল ইস্যুতে আপস করবে না ইরান: আব্বাস আরাগচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি ও সার্বিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না তেহরান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তুরস্ক সফরে গিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
সংবাদ সম্মেলনে আরাগচি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, ইরানের মিসাইল ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কখনোই কোনো আলোচনা হবে না।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনা করতে চায়, তবে তেহরান রাজি আছে। কিন্তু সেই আলোচনা অবশ্যই হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থ, মর্যাদা এবং সমতার ভিত্তিতে। কোনো ধরনের একতরফা চাপ বা শর্ত দিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনা যাবে না।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এক্সিওস’ এক প্রতিবেদনে জানায়, ওয়াশিংটন ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে বাধ্য করতে চাপ দিচ্ছে। যেখানে শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে— ইরানের মিসাইলের আঘাত হানার পাল্লা বা দূরত্ব কমাতে হবে এবং ইউরেনিয়ামের মজুদ শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। আরাগচির এই বক্তব্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রস্তাবের সরাসরি প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আঙ্কারাভিত্তিক ইরান বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র 'আইরাম'-এর পরিচালক সারহান আফাকান বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক বা মিসাইল ইস্যুতে কোনো সমঝোতায় আসা প্রায় অসম্ভব। ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি মূলত ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি, তাই এই জায়গা থেকে তেহরানের পিছিয়ে আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।”
ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কার মধ্যেই আব্বাস আরাগচি আঙ্কারা সফরে গেলেন। বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, তুরস্ক এই অঞ্চলে আর কোনো নতুন যুদ্ধ বা সংঘাত দেখতে চায় না। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ