
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গাজার শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ট্রাম্পের বিতর্কিত ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বোর্ড গঠন করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি সাংবাদিকদের জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “জাতিসংঘের প্রস্তাবনা অনুযায়ী ফিলিস্তিন সমস্যার টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে পাকিস্তান যেকোনো আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত থাকতে চায়।”
গাজায় শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প নিজেই নিজেকে এই বোর্ডের চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন। এই জোটে তুরস্ক, মিসর, ব্রিটেন, জার্মানি ও কানাডাসহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, বোর্ডের সনদে গাজার নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকায় ট্রাম্প এটিকে জাতিসংঘের একটি বিকল্প ও প্রভাবশালী কাঠামো হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন।
গত শুক্রবার ট্রাম্প এই বোর্ডের নির্বাহী প্যানেল ঘোষণা করেন। এতে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। এছাড়াও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন মন্ত্রী এই তালিকায় রয়েছেন। যদিও গাজায় তুরস্কের যেকোনো ধরনের ভূমিকার কড়া বিরোধিতা করে আসছে ইসরায়েল।
এদিকে, গাজা শাসনের জন্য গঠিত ফিলিস্তিনি প্রকৌশলীদের একটি কমিটি কায়রোতে তাদের প্রথম বৈঠক করেছে। জ্যারেড কুশনারের উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠকে সাবেক উপমন্ত্রী আলি শাআথ একটি চমকপ্রদ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ ভূমধ্যসাগরে ঠেলে দিয়ে জায়গা তৈরি করা হবে এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্গঠন করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন’ কেন্দ্রিক শান্তি পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।