প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 17 January 2026, 08:49 ইং
রোহিঙ্গা গণহত্যাকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি মিয়ানমারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার অভিযোগকে আবারও ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে দেশটির জান্তা সরকার। সোমবার থেকে শুরু হওয়া শুনানিতে মিয়ানমারের পক্ষে আইনজীবী কো কো হ্লেইং দাবি করেন, ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে কোনো গণহত্যা হয়নি, বরং সেটি ছিল সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর একটি নিয়মিত অভিযান।
শুনানিতে মিয়ানমারের প্রতিনিধি কো কো হ্লেইং বলেন, “২০১৭ সালে রাখাইনে যা ঘটেছিল তা ছিল নিছক সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান। সেই সময় পুলিশ স্টেশন ও সেনাছাউনিতে সন্ত্রাসী হামলার পর রাখাইনকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে যেতে দেওয়া সেনাবাহিনীর পক্ষে সম্ভব ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, সামরিক পরিভাষায় একে ‘ক্লিয়ারিং অপারেশন’ বা সন্ত্রাসবাদ দমন অভিযান বলা হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে প্রচার করে মিয়ানমার ও দেশটির জনগণকে বিশ্বজুড়ে কলঙ্কিত করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে রাখাইন রাজ্যে আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-র হামলার অজুহাতে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে ভয়াবহ অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। সেই সময় নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগের মুখে জীবন বাঁচাতে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল সেই সময়কার ঘটনাপ্রবাহকে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ হিসেবে অভিহিত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছিল।
সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজে-তে গণহত্যার মামলা দায়ের করে। গত সোমবার থেকে সেই মামলার নতুন পর্যায়ের শুনানি শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যতম উদ্বেগের বিষয় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন। এ প্রসঙ্গে শুনানিতে কো কো হ্লেইং দাবি করেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতিপূর্বে কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও করোনা মহামারি ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারণে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি আদালতকে জানান।
তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ও বিশ্লেষকরা মিয়ানমারের এই দাবিকে ‘কালক্ষেপণের কৌশল’ হিসেবে দেখছেন। রাখাইনে এখনো রোহিঙ্গাদের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ