প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 16, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 16 January 2026, 13:13 ইং

স্বপ্নভূমি ডেস্ক:
জোট নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল টানাপোড়েন। সবকিছু সামলে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করে ১১ দল নিয়েই আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা ছিল শরিকদের। তবে বিভিন্ন ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত আর ঐকমত্য হয়নি। যার জেরে জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আর এর জন্য জোটের আরেক শরীক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে বিশেষভাবে অভিযুক্ত করেছে তারা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ইসলামী আন্দোলনের পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের আমির সৈয়দ রেজাউল করিমের পক্ষ থেকে জোট ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।
তিনি জানান, জোট ভেঙে যাওয়ার অনেকগুলো কারণ আছে। এরমধ্যে মৌলিক কারণগুলো উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ কর দুটি কারণের কথা বলেন- আদর্শিক এবং রাজনৈতিক।
জামায়াতে ইসলামীকে একটি বড় শক্তি হিসেবে স্বীকার করলেও গাজী আতাউর রহমান উল্লেখ করেন, তারাও আদর্শিক ও নৈতিকভাবে কারো চেয়ে দুর্বল নন। জোটের প্রধান শক্তিগুলো, বিশেষ করে জামায়াতের লক্ষ্য ও আদর্শের প্রতি আস্থার অভাব এই বিভক্তির অন্যতম কারণ।
তিনি বলেন, আজকে আমাদের দুঃখজনক বার্তা হলো- আমরা অবাক বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম জামাতে ইসলামীর সম্মানিত আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। জামায়াত আমির খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সাথে আলাপকালে আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন এবং শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করবেন না। এই বিষয়টি জানার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করেছে, যাদের সাথে তারা ঐক্যবদ্ধ হতে চেয়েছিল, তারাই যদি ইসলামের আদর্শ থেকে সরে যায় তবে তাদের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।
‘কারণ, আজকে যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার মত একটা পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এখন যারা প্রধান শক্তি তারাই যদি ইসলামী আদর্শ থেকে ভিন্ন দিকে চলে যায়, ইসলামী আইনের প্রতি যদি তাদের আস্থা না থাকে তাহলে আমরা যে কর্মী সমর্থক নিয়ে সারাদেশে ইসলামের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।’ বলেন গাজী আতাউর রহমান।
তিনি জানান, ইসলামী আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য হলো ইসলামকে আগে রাখা এবং ইসলামের পক্ষের জনশক্তির যে প্রত্যাশা বা "ইসলামের পক্ষের বাক্স", তা হেফাজত করা। তারা মনে করেন, প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো যদি ইসলামী আইনের প্রতি আস্থা না রাখে, তবে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম সফল হবে না।
জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানেরও সমালোচনা করেছে দলটি। বিষয়টি জোট ছাড়ার অন্যতম কারণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক কারণ হিসেবে গাজী আতাউর রহমান উল্লেখ করেন, ‘আমরা যখন সমঝোতা করবো, একই পথে নির্বাচন করবো, আমাদের ভোট নিয়ে যারা সংসদে যাবে, আমরা যাদের ভোট নিয়ে সংসদে যাবো তাদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা সম্মানজনক হতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপি প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বলেছেন, তারা নির্বাচনের পর বিএনপির সঙ্গে জাতীয় সরকার গঠন করবেন এবং বেগম খালেদা জিয়া যে ঐক্যের পাটাতন তৈরি করে গেছেন সেই পাটাতনে দাঁড়িয়ে আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।‘
গাজী আতাউর রহমান প্রশ্ন তোলেন,
তিনি একটি জোটে আছেন, অথচ একটি প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির (বিএনপি) সাথে গিয়ে নিজে ঘোষণা দিয়ে এলেন যে, উনি জাতীয় সরকার গঠন করবেন। আমাদের সাথে তো এটা নিয়ে আলোচনা করেননি। তিনি এককভাবে ঘোষণাটা দিয়ে এসেছেন। এখানে নির্বাচনের আগেই যখন একটি সমঝোতা-সমন্বয় প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সাথে হয়ে যাচ্ছে, তাহলে এই নির্বাচন পাতানো নির্বাচন হবে কিনা, এটা ইলেকশন হবে নাকি সিলেকশন হবে সেই শঙ্কাটা আমাদের সামনে চলে এসেছে। এই শঙ্কা নিয়ে তো আমরা কারো সহযোগী হতে চাই না।
‘আমরা চাই একটি প্রযোগিতামূলক নির্বাচন। নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগির নির্বাচন, সিলেকশনের নির্বাচন আমরা চাই না। কিন্তু আমরা সেই আশঙ্কা করছি যে, আমাদের সাথে ঐক্য করে তলে তলে অন্যরকম কিছু হবে।’
নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, দলের পক্ষ থেকে ২৭০টি আসনে প্রার্থী দেয়া হয়েছিল। এরমধ্যে দুজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বর্তমানে যে ২৬৮ জন প্রার্থী আছেন তারা কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।
তিনি আরও বলেন, বাকি ৩২টি আসনেও আমরা সমর্থন দেবো। কাদের সমর্থন দেয়া হবে, সেটা মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেবো। আমাদের নীতি-আদর্শ এবং লক্ষ্যের সঙ্গে যাদের মিল হবে, তেমন সৎ লোকদের সমর্থন দেয়া হবে। আমরা আশা করি ৩০০ আসনেই আমাদের প্রার্থী থাকবে। যাতে ইসলামের পক্ষে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের ‘ওয়ান বক্স’ নীতির যেন সঠিক বাস্তবায়ন হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছাড়াই ২৫৩ আসনে সমঝোতার ঘোষণা দেয় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ১০টি দল। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি ৭টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২টি আসনে লড়বে বলে জানানো হয়।
৪৭টি আসন তখন ফাঁকা রাখা হয়েছিল। শোনা যাচ্ছিল- আসনগুলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতার জন্য রাখা হয়েছে। দলটির সঙ্গে সমঝোতার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে। তবে ইসলামী আন্দোলন জোটে না থাকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর বাকি আসনগুলোতেও নতুন করে সমঝোতায় যেতে হবে ১০ দলকে।