প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 14 January 2026, 05:57 ইং
মিয়ানমারে জান্তার সাজানো নির্বাচনে সেনাপন্থি দলের দাপট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মিয়ানমারে সামরিক জান্তা পরিচালিত বহুল বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনে সংসদের নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পাওয়ার দাবি করেছে সেনাপন্থি রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। মঙ্গলবার দলটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই দাবি করেছেন বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি নিশ্চিত করেছে। যদিও বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘ এই নির্বাচনকে ‘সাজানো’ এবং ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে।
গত রোববার মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত ভোটের দ্বিতীয় ধাপে ১০০টি আসনের মধ্যে ৮৭টিতে জয় পেয়েছে ইউএসডিপি। প্রথম ধাপের ফলের সঙ্গে এটি যোগ করলে নিম্নকক্ষে দলটির মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৬। উল্লেখ্য যে, নিম্নকক্ষের নির্বাচিত মোট ৩৩০টি আসনের মধ্যে ইতিমধ্যে অর্ধেকের বেশি তাদের কবজায় চলে এসেছে। অথচ এখনো তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ বাকি রয়েছে।
মিয়ানমারের সামরিক সংবিধান অনুযায়ী, নিম্নকক্ষের মোট ৪৪০টি আসনের মধ্যে ১১০টি আসন (২৫ শতাংশ) আগে থেকেই সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। ইউএসডিপি মূলত অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের দল হওয়ায় এই জয়ের মাধ্যমে সংসদে সামরিক বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য সুনিশ্চিত হলো।
মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক টম অ্যান্ড্রুজ এই নির্বাচনকে ‘কৌশলগত সাজানো নাটক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, জান্তা সরকার নিজেদের বৈধতা তৈরি করতে এবং সামরিক আধিপত্য পাকাপোক্ত করতেই এই প্রহসনের আয়োজন করেছে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল মিন অং হ্লেইং। সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (এনএলডি) বিলুপ্ত করে হাজার হাজার ভিন্নমতাবলম্বীকে আটক করা হয়। গণতন্ত্রকামী নেত্রী সু চি এখনো কারান্তরীণ। এই পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রপন্থীরা নির্বাচন বর্জন করায় জান্তার মিত্ররা ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
আগামী ২৫ জানুয়ারি মিয়ানমারে নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং ইতিমধ্যে সামরিক পদ ছেড়ে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। আগামী মার্চে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে নিম্ন ও উচ্চকক্ষের সদস্যরা যৌথভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে মিয়ানমারে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, বরং সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা আরও দীর্ঘায়িত হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ