প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 13 January 2026, 11:42 ইং
সরকারি ট্রেন থেকে বেসরকারি বেতনা কমিউটার ট্রেন

বেনাপোল প্রতিনিধি:
বেনাপোল-খুলনা-মোংলা (ভায়া যশোর) রুটে চলাচলকারী লাভজনক বেতনা কমিউটার ট্রেন আজ রোববার থেকে সরকারি তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থান থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের নীতিমালা অনুসারে তিন বছরের জন্য ট্রেনটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং করপোরেশন’।

বেসরকারি খাতে ট্রেনটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল, যখন টিকেট ব্যবস্থাপনার জন্য দরপত্র আহŸান করা হয়। ১৯ মে দরপত্র খোলা হয় এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে যাচাই-বাছাই শেষে বিষয়টি রেলের মূল্যায়ন কমিটিতে পাঠানো হয়। পরে ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং করপোরেশনকে তিন বছরের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। রেল সূত্রে জানা গেছে, এই রুটটি বেসরকারি খাতে দিলে বর্তমান আয়ের তুলনায় ২০-৩০ শতাংশ বেশি রাজস্ব অর্জন সম্ভব।
বেতনা কমিউটার ট্রেনের ইতিহাসে দেখা যায়, এটি ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর যাত্রা শুরু করে। ২০১০ সাল পর্যন্ত সরকারি তত্ত¡াবধানে চলার পর কিছু বছর বেসরকারি খাতে চলে যায়। তবে বেসরকারি টিকেট ব্যবস্থাপনায় যাত্রীসেবা নষ্ট হওয়ায় এবং চোরাকারবারির আধিপত্যের অভিযোগে ২০১৩ সালে পুনরায় সরকারি তত্ত¡াবধানে আসে। ২০১৭ সালের ১ মার্চ থেকে দিনে দুইবার যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হয়। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৪০-৪৫ লাখ টাকা আয় হচ্ছে এবং মাসিক যাত্রী সংখ্যা গড়ে ৭০-৭৫ হাজার।
যাত্রী ও স্থানীয়রা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, বেসরকারি খাতে গেলে বগি কমিয়ে যাত্রীদের গাদাগাদি করতে হবে এবং অতিরিক্ত খরচ দিতে হবে। ট্রেনটি সরকারি তত্ত¡াবধানে থাকলে চেকার নিয়োগ ও সচেতনতা বাড়িয়ে রাজস্ব আরও বাড়ানো সম্ভব।
ট্রেনযাত্রী জাহিদ হাসান বলেন, খুলনা থেকে বেনাপোল বাসে সময় লাগে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা, ভাড়া ২৫০ টাকা। কমিউটার ট্রেনে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা, ভাড়া মাত্র ৪৫-৫০ টাকা। তাই ভারত যাতায়াতকারী ও যশোরের যাত্রীরা কম খরচে ট্রেন ব্যবহার করেন। অন্য যাত্রী সুজন রহমান বলেন, বেসরকারি খাতে গেলে ভোগান্তি বাড়বে এবং চোরাচালানকারীর আধিপত্য ফিরে আসতে পারে। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
টেন্ডারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক হুমায়ন আহমেদ জানিয়েছেন, বাজেটসহ নানা কারণে বিলম্ব হয়েছিল। আজ থেকে আমাদের দায়িত্বে ট্রেনটি চলবে।
বেনাপোল রেলস্টেশনের মাস্টার আয়নাল হাসান জানিয়েছেন, ভাড়া অপরিবর্তিত থাকবে, ট্রেন সপ্তাহের সাত দিন চলবে এবং আগে প্রতি মঙ্গলবার বন্ধ থাকতো, এখন আর বন্ধ থাকবে না।
পাকশীতে কর্মরত রেলওয়ের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মিহির কুমার গুহ বলেন, নীতিমালা অনুসরণ করে ট্রেনটি লিজ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে যে কোনো সময় লিজ বাতিলের ক্ষমতা রেলওয়ের রয়েছে।
বাণিজ্যিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই রুটটি প্রতি মাসে গড়ে ৪০-৪৫ লাখ টাকা আয় করছে এবং দৈনিক গড়ে ২, হাজার ৩শ থেকে ২ হাজার ৫শ যাত্রী ব্যবহার করছে। ব্যবসায়িক দিক থেকে সরকারি থেকে বেসরকারি হস্তান্তরের মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনায় নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। এতে রাজস্ব বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে, তবে যাত্রী সেবা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ