প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 13 January 2026, 11:42 ইং
হলদিয়ায় নৌঘাঁটি করছে ভারত, টার্গেটে চীন ও বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, স্বপ্নভূমি :
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারত। বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে চীন ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সামরিক ঘনিষ্ঠতা বিবেচনায় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় একটি নতুন নৌঘাঁটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ভারতীয় নৌবাহিনীর একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম 'ইন্ডিয়া টু-ডে'কে এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগরে চীনের আধিপত্য রুখতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতেই এই অগ্রবর্তী ঘাঁটি স্থাপন করা হচ্ছে।
কলকাতা থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বন্দরশহর হলদিয়া। নৌঘাঁটি স্থাপনের জন্য হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সকে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে দুটি বড় সুবিধা পাবে নৌবাহিনী: ১. হুগলি নদী হয়ে অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের মূল পয়েন্টে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ২. বর্তমান ডক অবকাঠামো ব্যবহারের ফলে নতুন করে বিশাল স্থাপনা তৈরির খরচ ও সময়—উভয়ই সাশ্রয় হবে।
সূত্র জানিয়েছে, এই ঘাঁটিতে ভারতের আধুনিকতম ও দ্রুতগতির সামরিক নৌযানগুলো মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
- ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফটস (FIC): অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন এই নৌযানগুলো অনুপ্রবেশ রুখতে কার্যকর।
- নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফটস (NWJFAC): এগুলোর গতিবেগ ঘণ্টায় ৭৪ থেকে ৮৩ কিলোমিটার পর্যন্ত (৪০-৪৫ নট)।
এসব যুদ্ধজাহাজ আধুনিক মারণাস্ত্র ও প্রযুক্তি দ্বারা সজ্জিত থাকবে। বিশেষ করে সিআরএন-৯১ স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান এবং ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি 'নাগাস্ত্র' নামক সুইসাইডাল ড্রোন সিস্টেম এই ঘাঁটির প্রধান শক্তি হয়ে উঠবে।
চীন ও পাকিস্তান ফ্যাক্টর ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গোপসাগরে চীনের নৌ তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার নানা চুক্তি এবং ঢাকার সঙ্গে ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ নয়াদিল্লির উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ঘনঘন সফর ও আলোচনাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখছে ভারত।
ঘাঁটির জনবল প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত এই নৌঘাঁটিতে ১০০ জন নৌ-কর্মকর্তা ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নৌসেনা সার্বক্ষণিকভাবে মোতায়েন থাকবেন। এটি ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল সেন্টার হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হলদিয়ার এই ঘাঁটিটি কেবল নজরদারি নয়, বরং জরুরি অবস্থায় বঙ্গোপসাগরে ভারতের তাৎক্ষণিক সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ