প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 08 January 2026, 12:52 ইং
বাংলাদেশের কাছে ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবার যৌথভাবে তৈরি ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ যুদ্ধবিমান বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামাবাদ। গত বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধানের মধ্যে এই সংক্রান্ত একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি করা চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার সংগ্রহ করা এবং দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদার করা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে পাকিস্তান বাংলাদেশকে ‘সুপার মুশশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও কারিগরি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের দাবি, এই সফর দুই দেশের শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বছরের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছে, তার
সুযোগ নিয়ে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। ১৯৭১ সালের পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে সরাসরি নৌ-বাণিজ্য শুরু হয়েছে এবং সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগের হার কয়েক গুণ বেড়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে জানিয়েছেন, জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানের চাহিদা বিশ্ববাজারে দ্রুত বাড়ছে। ইতিমধ্যে আজারবাইজান ও লিবিয়ার সঙ্গে বড় অংকের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। খাজা আসিফ বলেন, “আমাদের বিমান এখন পরীক্ষিত। আমরা এত বেশি অর্ডার পাচ্ছি যে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের হয়তো আর আইএমএফ-এর ঋণের প্রয়োজনই হবে না।”
পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, গত বছরের মে মাসে চিরশত্রু ভারতের সঙ্গে আকাশসীমায় সাফল্যের পর জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছে। এখন সেই সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের মতো দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম দেশে অস্ত্র রপ্তানি বৃদ্ধি করতে চায় ইসলামাবাদ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ