
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের ৫৩টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিআইডির উপ-পরিদর্শক আব্দুল লতিফ আদালতকে জানান, হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং বা অর্থ পাচার বিষয়ক অনুসন্ধান চলছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ফয়সালের নামে থাকা ৫৩টি হিসাবে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক লেনদেন পাওয়া গেছে। সিআইডির দাবি, এই অর্থের সঙ্গে খুন, সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসী কার্যে অর্থ জোগানের সংশ্লিষ্টতা থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থ যাতে পাচার বা বেহাত হতে না পারে, সেজন্য মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা এবং পরবর্তীতে সমুদয় অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা প্রয়োজন।
এদিকে, হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদ ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) চার্জশিট দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার ১৭ আসামির মধ্যে ১১ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা এবং ভারতে পালাতে সহায়তাকারী দুই ব্যক্তি। অন্যদিকে, প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ, কাউন্সিলর বাপ্পি এবং ফয়সালের বোন ও ভগ্নিপতিসহ ৬ জন এখনো পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুষ্কৃতকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা করেন মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, যা পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুর পর হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।