প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 08 January 2026, 12:52 ইং
হস্তক্ষেপ গণতন্ত্র আনে না: মাদুরোকে আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়ে মেক্সিকোর হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ
ভেনেজুয়েলায় ঝটিকা সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনায় লাতিন আমেরিকায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতির পর প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম এক কঠিন কূটনৈতিক ভারসাম্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে তিনি মার্কিন অভিযানের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন, অন্যদিকে ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হওয়া থেকে বাঁচতে ওয়াশিংটনের সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার পথে হাঁটছেন।
গত শনিবার মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মেক্সিকো নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, মেক্সিকো এখন মাদক কার্টেলগুলোর নিয়ন্ত্রণে এবং সেখানেও মার্কিন পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মেক্সিকো সীমান্তের ওপাড়ে এমন সামরিক সক্রিয়তা শেইনবাউম প্রশাসনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি একটি বিশেষ নথি পাঠ করে শোনান যেখানে বলা হয়, “আমরা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি। লাতিন আমেরিকার ইতিহাস সাক্ষী—হস্তক্ষেপ কখনো কল্যাণ বা স্থায়ী স্থিতিশীলতা আনেনি।”
যদিও প্রকাশ্যে মেক্সিকো সরকার মার্কিন আগ্রাসনের নিন্দা জানাচ্ছে, কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, মেক্সিকো সিটি সম্ভবত ওয়াশিংটনের সাথে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে। উদ্দেশ্য হলো, মাদক কার্টেলবিরোধী যৌথ অভিযান শক্তিশালী করার মাধ্যমে একতরফা মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ ঠেকানো। অর্থাৎ, মেক্সিকো দেখাতে চায় যে তারা নিজ থেকেই মাদক সমস্যা সমাধানে সক্ষম, যাতে মার্কিন বাহিনীকে সীমানা অতিক্রম করতে না হয়।
এদিকে, মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদুরোকে সোমবার নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং নিজেকে একজন ‘যুদ্ধবন্দি’ হিসেবে ঘোষণা দেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মেক্সিকোর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং একই সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে দেশকে দূরে রাখা। ওয়াশিংটনের সাথে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোই এখন শেইনবাউম সরকারের টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ