প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 07 January 2026, 03:26 ইং
বরফকল মালিককে হত্যার ঘটনায় মামলা, বান্ধবী পুলিশ হেফাজতে

মনিরামপুর প্রতিনিধি :
যশোরের মনিরামপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৮) খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে নিহত রানার বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মনিরামপুর থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই খবর লেখা পর্যন্ত পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় রানা খুনের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতে পুলিশ রানার লাশ মর্গে পাঠানোর উদ্দেশে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। এসময় পুলিশ রানার বান্ধবী ঝুমুর মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। কপালিয়া বাজারে যেখানে রানা প্রতাপ খুন হন সেখানকার পাশে ঝুমুর বিউটি পার্লার রয়েছে।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান মামলা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ঝুমুর নামে কাউকে আটক করা হয়নি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এদিকে কি ঘটনায় রানা প্রতাপকে হত্যা করা হয়েছে তার রহস্য এখনো উদ্ধার হয়নি।
রানার পরিবারও তাকে হত্যার পিছনে ঠিক কি কারণ আছে তা অনুমান করতে পারছেন না।
পুলিশ বিউটি পার্লারের মালিক যে ঝুমুরকে হেফাজতে নিয়েছে তার বাড়ি কেশবপুরে রানার পাশের গ্রামে। ঝুমুর রানার ক্লাসমেট বান্ধবী এমনটি জানতেন স্থানীয়রা।
রানার বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক তুষার কান্তি বলছেন, বরফকলের কর্মচারীরা আমাকে বলেছে, বিউটি পার্লারের মেয়েটি ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রানার সাথে বরফ কলে এসে কথা বলে চলে যায়। এরপর মোটরসাইকেলে চড়ে আসা দুটো ছেলে রানার সাথে এসে কথা বলে। এরপর রানা বরফকল থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বিউটি পার্লারের দিকে আসলে খুনের ঘটনা ঘটে। এই ঝুমুরকে হত্যাকারীরা গোয়েন্দা হিসেবে ব্যবহার করেছে কিনা এমনটি বাদীর সন্দেহ।
রানার বাবা আরও বলেন, আমার ছেলে বাগেরহাটের একটি সরকারি কলেজ থেকে ইংরেজিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ব্যবসার সাথে যুক্ত হয়েছে। সে কোন রাজনীতিও করত না।
এদিকে রানার স্ত্রী সীমা বৈরাগী বলেন, আমার স্বামী প্রায় বলত ঝামেলা চলছে। কিন্তু সে খুলে কিছু বলত না। কপালিয়া বাজারে আগে থেকে আরও একটি বরফকল ছিল। আমার স্বামী বরফকল দেওয়ার পর সেই মালিক শত্রুতা শুরু করেছিল। আমার স্বামীকে মারার জন্য সে লোকও ভাড়া করেছিল। আমার স্বামী একসময় দলদারি করত। আমার ছেলের বয়স ১০ বছর। ছেলের জন্মের পর থেকে ও (স্বামী) সবকিছু ছেড়ে ভাল হয়ে গেছে। ওর ঘের আছে। মাছের আড়ৎ আছে। এসব সহ্য হয়নি। এজন্য ওরে সরায়ে দেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে রানা প্রতাপ একসময় চরমপন্থি দলের সদস্য ছিল। তার নামে কেশবপুর ও অভয়নগর থানায় হত্যা, ধর্ষণ ও বিষ্ফোরক আইনে মামলা আছে।
তবে এসব মামলা সাজানো বলে দাবি করেছেন রানার মা মাধবী লতা। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য ওর নামে মামলা দেওয়া হয়েছিল। পরে আবার মামলাকারীরা বলেছিল, মামলা দেওয়া আমাদের ভুল হয়েছে। আমার ছেলে কারও সাথে খারাপ ব্যবহার করে না।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে রানার মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। নিহতের মাথায় তিনটি ও পেটে একটি গুলি করার পর দুর্বৃত্তরা তাকে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় রানাকে কপালিয়া বাজারে একটি গলিতে ডেকে এনে তিনজন দুর্বৃত্ত হত্যা করে মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে গেছে। এরপর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তখন ঘটনাস্থল থেকে পড়ে থাকা তিনটি গুলি উদ্ধার হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। রানা প্রতাপ কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ