প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 06 January 2026, 11:49 ইং
মন্দা কাটিয়ে ছন্দে ফিরছে বেনাপোল,রেকর্ড ভেঙে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত

বেনাপোল প্রতিনিধি :
নানা বিধিনিষেধ, বাণিজ্য মন্দা এবং যাত্রী সংকটের নেতিবাচক আবহ কাটিয়ে আবারও সক্ষমতার জানান দিচ্ছে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল। দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে রোববার (৪ জানুয়ারি) একদিনেই ভারত-বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকা এবং পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা একে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এক ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৯টা থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল রুটে পুরোদমে শুরু হয় বাণিজ্য কার্যক্রম। দিনশেষে দেখা যায়, দুই দেশের মধ্যে মোট ৩১৪ ট্রাক পণ্য আমদানি-রফতানি হয়েছে।
ভারত থেকে আমদানি (২৭৮ ট্রাক): শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, শিশু খাদ্য, মেশিনারিজ, অক্সিজেন, ফল, চাল, পেঁয়াজ ও মাছসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।
বাংলাদেশ থেকে রফতানি (৩৫ ট্রাক): বসুন্ধরা টিস্যু, মেলামাইন সামগ্রী, কেমিক্যাল, মাছ এবং ওয়ালটন ব্র্যান্ডের ইলেকট্রনিক পণ্য।
ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্যমতে, রোববার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৯৪ জন যাত্রী দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে ভারতে গিয়েছেন ৮২১ জন এবং ফিরেছেন ৬৭৩ জন। পর্যটক, চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রয়োজনে যাতায়াতকারী এই যাত্রীদের ভ্রমণ কর থেকে সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ টাকা।
বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন জানান, "২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। গত বছরের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন গড়ে ৬৫০ থেকে ৭০০ ট্রাক পণ্য যাতায়াত করত এবং রাজস্ব আয় হতো ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা। রোববারের এই পরিসংখ্যান গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং এটি বাণিজ্য সচল হওয়ার একটি বড় ইঙ্গিত।"
সফলতার পাশাপাশি কিছু প্রতিবন্ধকতার চিত্রও উঠে এসেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে সুতাসহ কিছু পণ্যের আমদানি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে পাট, পাটজাত দ্রব্য এবং কাঠের আসবাবপত্র রফতানি করা যাচ্ছে না।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন বলেন, "রোববারের বাণিজ্য প্রমাণ করে পরিবেশ স্বাভাবিক হলে বেনাপোল আবারও তার পুরনো রূপে ফিরবে। তবে এক বছর ধরে দুই দেশের বাণিজ্য বৈঠক বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে আছেন। দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিলে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।"
সীমান্তবর্তী মানিচেঞ্জারদের তথ্যমতে, রোববার মুদ্রা বাজারেও কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। এদিন ১০০ বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে ৭৪ ভারতীয় রুপি পাওয়া গেছে। এছাড়া মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১২৫ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৬ টাকা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ