প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 04 January 2026, 09:58 ইং
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিমান হামলা: জরুরি অবস্থা ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। এই নজিরবিহীন সামরিক আগ্রাসনের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।
বিবিসি ও সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে। কারাকাসের কৌশলগত সামরিক অবকাঠামো এবং জনবহুল এলাকা লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার সামরিক শক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করতেই এই অভিযান।
হামলার পরপরই জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর ন্যাক্কারজনক আঘাত হেনেছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন হামলা নয়, বরং ভেনেজুয়েলার মূল্যবান তেল ও খনিজ সম্পদ লুটে নেওয়ার একটি ষড়যন্ত্র।" তিনি দেশবাসীকে এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ভূখণ্ডে যে চরম ন্যাক্কারজনক সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিশ্ববাসীর কাছে আমরা এই নগ্ন হামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলে ধরছি এবং এই সামরিক আগ্রাসনকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি।”
দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদক উৎপাদন ও পাচারের অভিযোগ তুলে আসছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এই অজুহাতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ ও বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম জড়ো করে মার্কিন নৌবাহিনী। প্রথমে সাগরে ভেনেজুয়েলার নৌযানগুলোতে হামলা চালানো হলেও আজ সরাসরি স্থলভাগে আক্রমণ শুরু করল ওয়াশিংটন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ লাতিন আমেরিকায় দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মাদুরো সরকারের ওপর এই হামলা বৈশ্বিক রাজনীতিতেও নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ