প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 02 January 2026, 11:51 ইং
মাদরাসার মাধ্যমিক স্তরের কোন বই পৌঁছায়নি মনিরামপুরে, বাকি আছে স্কুলের অষ্টম ও নবমের বই

মনিরামপুর প্রতিনিধি :
রাত পোহালেই ১লা জানুয়ারি। অন্যান্য বছরের ন্যায় শুরু হবে বই উৎসব। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা এদিন বিনামূল্যের নতুন বই নিতে সকাল থেকে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জড়ো হয়। নতুন বইয়ের বুকে জড়িয়ে ধরে ঘ্রাণ নিয়ে নতুন উদ্যামে পড়ার ইচ্ছায় হাসি মুখে বাড়ি ফেরে শিক্ষার্থীরা।
কিন্তু মনিরামপুরে মাদরাসা পড়ুয়া মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই আনন্দে এবার ভাটা পড়তে যাচ্ছে। মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরে মাদরাসার ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির কোন বই না আসায় উপজেলার কোন মাদরাসায় মাধ্যমিক স্তরের বই পৌঁছায়নি। ফলে বই উৎসব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই স্তরের উপজেলার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।
এদিকে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অষ্টম ও নবম শ্রেণির সব বই পৌঁছায়নি। অষ্টম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ ও হিন্দু ধর্ম শিক্ষার বই ছাড়া অন্য কোন বই আসেনি মনিরামপুরে। পৌঁছায়নি নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের কোন বই। বাকি আছে বাণিজ্য বিভাগের বইও।
মনিরামপুর উপজেলার কয়েকটি স্কুল ও মাদরাসার প্রধান এবং উপজেলা মাম্যমিক শিক্ষা দপ্তরে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।
মনিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের হিসাব রক্ষক জিয়াউর রহমান বলেন, উপজেলার ৬৯টি মাদরাসার ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত ১০ হাজার বইয়ের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। কোন বই মনিরামপুরে আসেনি। এবতেদায়ী মাদরাসাগুলোতে সব বই পৌঁছে গেছে।
জিয়াউর রহমান বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই পৌঁছেছে। অষ্টম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ ও হিন্দু ধর্ম শিক্ষার বই স্কুলে পৌঁছেছে। এছাড়া এই শ্রেণির কোন বই আসেনি। নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের কোন বই হাতে পাওয়া যায়নি। বাণিজ্যিক বিভাগের হিসাব বিজ্ঞান ছাড়া অন্য বই এখনো এসে পৌঁছায়নি।
রাজগঞ্জ ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের মাধ্যমিক স্তরে ২০০ সেট বইয়ের চাহিদা জমা দেওয়া হয়েছে। কোন বই আমরা হাতে পাইনি। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা অনেক আশা নিয়ে নতুন বই নিতে আসবে। তাদের সান্ত্বনা দিয়ে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠানো ছাড়া কোন উপায় দেখছি না।
মনিরামপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির সব বই পেয়েছি। অষ্টম ও নবম শ্রেণির অনেক বই বাকি আছে।
মনিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রশিদ বলেন, মাদরাসার মাধ্যমিক পর্যায়ের কোন বই হাতে পাইনি। স্কুল পর্যায়ে নবম শ্রেণির ৫১ শতাংশ বই এসেছে। আর অষ্টম শ্রেণির দুই-একটা বই দিতে পেরেছি।
জিল্লুর রশিদ বলেন, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। আশা করছি আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব বই পৌঁছে যাবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ