প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 22 December 2025, 11:54 ইং
চাঁদাবাজি মামলায় বিএনপির নেতা জনিসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর:
যশোরের অভনগরের ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৪ কোটি টাকা বহুলালোচিত চাঁদাবাজি বিএনপির সাবেক নেতা আসাদুজ্জামান জনিসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সালাহউদ্দিন খান।
অভিযুক্ত অপর আসামিরা হলো, আসামি জনির পিতা অভয়নগরের গুয়াখোলা গ্রামের সুপারিপট্টি এলাকার কামরুজ্জামান মজুমদার ,গুয়াখোলা কলেজ রোডের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে কামরুজ্জামান মিঠু, গুয়াখোলা গ্রামের মৃত মহিউদ্দিনের ছেলে ও দূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা এনায়েত হোসেন শান্টু, গুয়াখোলা সুপারিপট্টির নজির হোসেন খোকার ছেলে স¤্রাট হোসেন বাবু, কোটা পূর্বপাড়ার কুদ্দুস তরফদারের ছেলে বায়েজিদ হোসেন তরফদার, কোটা গ্রামের মাহমুদ হোসেনের ছেলে মারুফ হাসান তুহিন, নওয়াপাড়া বউবাজার এলাকার মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাস ওরফে খলিল কসাইয়ের ছেলে রুহুল আমিন, ধোপাদি দপ্তরি পাড়ার বাসিন্দা মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ দপ্তরি ও বুইকরা গ্রামের আজাদ শেখের ছেলে সৈকত হোসেন হিরা।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুকে আসামি আসাদুজ্জামান জনির অফিসে ডেকে নিয়ে তার সহযোগী সৈকত হোসেন হিরা। রাতে ব্যবসায়ী টিপু আসামি জনির অফিসে গেলে মারধর এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ২ কোটি টাকা দাবি করেন বিএনপির সাবেক নেতা জনি। এ সংবাদ জানতে পেরে টিপুর স্ত্রী আসমা খাতুন সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে জনির প্রতিষ্ঠানের হিসাব নম্বরে ২ কোটি টাকা পাঠালে টিপুকে ছেড়ে দেয়।
১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে শাহনেওয়াজ কবীর টিপু গ্রামের বাড়ি চলিশিয়া থেকে মোটরসাইকেলে করে বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেট পার হলে আসামি সৈকত হোসেন হিরা তার গতিরোধ করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তার স্ত্রী আসমা খাতুন জানতে পারেন, ব্যবসায়ী টিপুকে আসাদুজ্জামান জনির কণা ইকো পার্কে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। পার্কে গিয়ে টিপুর স্ত্রী আসমা খাতুন জানতে পারেন, আসামি জনি, স¤্রাট হোসেন বাবু ও মফিজুর রহমান ব্যবসায়ী টিপুকে মারধর ও বুক পর্যন্ত গর্ত খুড়ে বালুচাপা দিয়ে তার কাছে আরও ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করছে। তখন টিপুর স্ত্রী বাধ্য হয়ে তার ম্যানেজারকে মোবাইল ফোন করে টাকা দিতে বলেন। ম্যানেজার প্রেসক্লাবের সম্পাদক মফিজুর রহমানের অ্যাকাউন্টে পূবালী ব্যাংক থেকে ৬৮ লাখ ও সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ৩২ লাখ টাকা পাঠিয়ে দেন। এছাড়া আসামি মফিজুর রহমান ব্যবসায়ী টিপুর কাছ থেকে আরও ১ কোটি টাকার একটি চেক নিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুর স্ত্রী আসমা খাতুন বাদী হয়ে ৬ জনের নামউল্লেখসহ অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে অভয়নগ থানায় চাাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন। এ মামলার তদন্তকালে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে এজাহারনামীয়সহ ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ওই ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশিটে অভিযুক্ত সকল আসামিকে আটক দেখানো হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ