প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 30, 2025 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 17 November 2025, 14:23 ইং
অতি ফর্সা রঙের কারণে পিতৃপরিচয় হারানো আফিয়ার পাশে দাঁড়ালেন তারেক রহমান

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর :
অতি ফর্সা রঙের কারণে পিতৃপরিচয় হারানো আফিয়া ও তার মায়ের পাশে দাঁড়ালেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী দশ দিনের মধ্যে তাদের জন্য নির্মাণ করে দেয়া হবে ঘর। পাশাপাশি আফিয়ার পরিপূর্ণ লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। একইসাথে আফিয়াকে তার পরিবারে ফেরাতে বিএনপি নেতাদের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার সকালে যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামে আফিয়ার নানা বাড়ি গিয়ে তারেক রহমানের এ বার্তা পৌঁছে দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ সদর আসনের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে দ্রুত এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অমিত।

বৃহষ্পতিবার রাতে 'বিদেশীদের মতো গায়ের রঙ হওয়ায় সন্তানকে অস্বীকার; মানবেতর জীবনযাপন আফিয়া ও তার মায়ের' শিরোনামে সময় সময় টিভির ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রতিবেদনটি প্রচার হয়।
যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া চাঁদপাড়া গ্রামের মোজাফফর হোসেনের সাথে ২০২০ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় কুয়াদা বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামের মনিরা খাতুনের। এরপর ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর এই দম্পতির ঘর আলো করে আসে আফিয়া। তবে শিশুটির শরীরেরর রঙ অতি ফর্সা, অনেকটা ইউরোপীয়দের মত। আর এতেই বিপত্তি ঘটে। জন্মের পর থেকে একবারের জন্য মেয়েকে কোলে তালেননি মোজাফফর। এমনকি স্ত্রীকে ফেলে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন। ৮ মাস পর স্ত্রী মনিরাকে তালাক দিয়ে পাড়ি জমান বিদেশে। এরপর শিশু কন্যাকে সৎমায়ের সংসারে আশ্রয় নেয় মনিরা। কিন্তু সেখানে শত গঞ্জনা মাথায় নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন এ অভাগী মা।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নজরে আসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তার নির্দেশে আজ সকালে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আফিয়ার কাছে ছুটে যান বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সেখানে গিয়ে আফিয়া ও তার মায়ের খোঁজ খবর নেন। প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলেন। এসময় তিনি আগামী দশ দিনের মধ্যে আফিয়ার জন্য ঘর নির্মাণ করে দেয়া, তার পরিপূর্ণ লেখাপড়ার দায়িত্ব গ্রহণ ও তাকে পিতার পরিবারে ফেরাতে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আফিয়া জেনেটিক ডিসঅর্ডারে সমস্যায় ভুগছেন। এধরণের সমস্য লাখে একজনের হয়। ওর পিতার পরিবারে বা এলাকায় শিক্ষার আলো না পৌঁছানোর ফলে তারা খারাপ একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারপরও আমার নেতার নির্দেশে আমরা তার পাশে আছি এব আগামীতেও থাকবো।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দ্রুত পদক্ষেপে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আফিয়ার মা মনিরা খাতুন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ