প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 30, 2025 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 11 November 2025, 11:19 ইং
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও সংস্কার কাঠামো হস্তান্তরই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের লক্ষ্য

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি সুসংগঠিত অর্থনৈতিক সংস্কার কাঠামো পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা। তিনি স্বীকার করেন যে, সমস্ত বড় সংস্কার এই স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।
রোববার (১০ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ এবং খাদ্য পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ কমিটির তিনটি পৃথক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়া কাজগুলো মূল্যায়ন করছে। তিনি বলেন, কর কাঠামো পুনর্গঠন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কমিশন পর্যালোচনা এবং ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করার মতো বড় সংস্কারগুলো চলমান থাকবে এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার হাতে নিয়েছে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে এসব অগ্রগতির মূল্যায়ন চলছে।
"নাগরিকদের কর পরিশোধে এখনও দুর্বলতা রয়েছে এবং বিভিন্ন কারণে রাজস্ব সংগ্রহেও প্রভাব পড়েছে। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছি।" - ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে প্রত্যাশিত কিস্তি পাওয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্জনে আইএমএফ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আইএমএফ সামাজিক খাতে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে আছে বলেও তিনি জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে আইএমএফ তহবিল পাওয়া যাবে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রাসঙ্গিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং আগামী বছরের শুরুতে তাদের একটি পর্যালোচনা দল বাংলাদেশ সফর করবে।
তিনি নিশ্চিত করেন, নির্বাচনের সময় আইএমএফ তাদের পর্যালোচনা করবে এবং পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচনের পর গঠিত সরকার গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে সরকারের কোনো আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেকসই সংস্কারের জন্য একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক সরকার প্রয়োজন।
আইএমএফ ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা করছে এবং স্বীকার করেছে যে, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। তবে রাজস্ব আদায়ে কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে আইএমএফের সুপারিশের সঙ্গে সরকার একমত পোষণ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নীতিগত প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও বলেন, কোনো বড় সিদ্ধান্ত সরকার সম্মিলিতভাবে নেবে এবং এটি সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ