প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 30, 2025 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 08 November 2025, 15:27 ইং
আ' লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্যের জীবনাবসান

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর :
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য, সাবেক এমপি এ্যাডভোকেট পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্যরে (৮০) জীবনাবসান ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ভোর সাড়ে পাঁচটায় যশোর শহরের বেজপাড়ার ভাড়া বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
যশোরের রাজনীতিতে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন এডভোকেট পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। তিনি রাজনীতির সর্বোচ্চ স্থান, অর্থাৎ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েও অর্থ-বিত্ত-বৈভব অর্জন করেননি।
মৃত সুধীর কুমার ভট্টাচার্য্য ও মৃত ঊষা রানী ভট্টাচার্য্যরে সাত সন্তানের প্রথম সন্তান পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য ১৯৪০ সালের ১ মার্চ যশোর জেলার মণিরামপুর থানার পাড়ালা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তারা ৪ ভাই ও ৩ বোন। বড় বোন সবিতা ভারতের বিহারে থাকেন, মেজ বোন কবিতা মারা গেছেন, ছোট বোন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক পরিতোষ সরকারের স্ত্রী, বর্তমানে অবসর জীবনে দু’জনে ঢাকাতে অবস্থান করছেন। মেজ ভাই স্বপন কুমার ভট্টাচার্য্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সেজ ভাই মৃত অরুণ কুমার ভট্টাচার্য্য মুক্তিযোদ্ধা এবং সফল আইনজীবী ছিলেন। ছোট ভাই বরুণ ভট্টাচার্য্য গ্রামে বসবাস করেন।
মণিরামপুরে ভাল স্কুল না থাকায় এবং মনমতো থাকবার ব্যবস্থা (লজিং) না পাওয়ায় তিনি যশোরের খাজুরা এম. এন মিত্র স্কুলে পড়াশুনা এবং এস এস সি পাশ করেন ১৯৫৬ সালে। আই এ ও বি এ এমএম কলেজ থেকে ১৯৫৭-৬০ সালের মধ্যে। এ সময় তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের নেতা নির্বাচিত হন। প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক খাঁন এই সংসদের সহ-সভাপতি ছিলেন। পারিবারিক অসুবিধা, বিশেষ করে পিতার মৃত্যুর কারণে পড়াশুনা স্থগিত করতে হয় তাকে। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে অর্থনীতিতে তিনি এম.এ পাশ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে।
মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে একজন সংগঠক হিসাবে কলকাতার হাবড়ার বাণীপুর শরণার্থী ক্যাম্প ইনচার্জ-এর দায়িত্ব নিয়ে সমগ্র সময়টা হাবড়াতেই কাটিয়ে দেন। এ সময় তিনি এই শরণার্থী ক্যাম্পে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় শিশুদের তিনটি স্কুল তৈরি করেন। এর যাবতীয় পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ, বেতনাদী সকল দায়িত্ব ছিল তার উপর। এর একটি স্কুলের তিনি অধ্যক্ষও ছিলেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।
স্বাধীনতার পর থেকে সর্বশেষ ঘোষিত যশোর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির তিনি সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ২০১৬ সালে তিনি কেন্দ্যীয় সভাপতিমণ্ডলির সদস্য নির্বাচিত হন। যশোর শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে ছিলেন যুক্ত। উদীচী, সুরধুনী, পুনশ্চ, যশোরের উপদেষ্টা ছিলেন।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বেজপাড়ায় স্ত্রী মনিকা ভট্টাচার্য্যকে নিয়ে বসবাস করতেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ