প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 30, 2025 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 28 October 2025, 12:09 ইং

স্বপ্নভূমি ডেস্ক : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশের ভূমিকাকে 'সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ' আখ্যা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচনকে ঘিরে জনগণ, রাজনৈতিক দলসহ সব মহলের প্রত্যাশা পূরণের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পুলিশের কাঁধে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানী ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টারে ‘হল অব প্রাইড’ সম্মেলন কক্ষে বিশেষ অপরাধ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। সভায় পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সভাপতিত্বে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, পুলিশ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এমন এক মানদণ্ড স্থাপন করবে, যা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে। তিনি জানান, সরকার এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
পুলিশকে উদ্দেশ করে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী মাঠে তারা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী নন; বরং জনগণের নিরাপত্তা, আস্থা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রতীক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আইনের প্রয়োগ শুধু শক্তি দিয়ে নয়, ন্যায়, নিষ্ঠা ও মানবিকতা দিয়েও প্রতিষ্ঠিত হয়।
সামনে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা শুরু হওয়ার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুলিশ সদস্যদের কঠোরভাবে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষাবলম্বন করতে, বিশেষ সুবিধা প্রদান ও গ্রহণ করতে এবং নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী ভাবতে পারবেন না।
উপদেষ্টা জানান, ফ্যাসিস্টদের তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে, যারা সমাজ ও রাষ্ট্রে অস্থিরতা সৃষ্টিতে সরাসরি জড়িত। এছাড়া জামিনে ছাড়া পেয়ে পুনরায় অপরাধ করছে এমন অনেক অপরাধীও সক্রিয়। ফ্যাসিস্টদের 'অপকর্ম, অপপ্রচার, অপরাজনীতি, অপরাধ ও ঝটিকা মিছিল' ঠেকাতে গ্রেপ্তার বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরীহ মানুষকে কোনোভাবেই হয়রানি করা যাবে না।
ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অধীনস্থ পুলিশ অফিসার ও ট্রুপসদের পেশাদারিত্ব, টিম স্পিরিট, শৃঙ্খলা ও মনোবল বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যাদের পেশাদারিত্ব নেই, শৃঙ্খলা নেই, যারা কমান্ড মানতে চায় না এবং সরকার ও রাষ্ট্রের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে—তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
এছাড়াও, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জেলা পর্যায়ে ঘনঘন কোর কমিটির সভা আহ্বানের তাগিদ দেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে এবং মিথ্যা মামলা দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে। পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চকে আরও সক্রিয় করার নির্দেশও দেন তিনি।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের মধ্যে রয়েছে—থানা থেকে লুট হওয়া, হারানো বা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান ত্বরান্বিত করা, জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের (কেপিআই) নিরাপত্তা জোরদার করা, অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা নিয়ে সতর্ক থাকা এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে তরুণ পুলিশ অফিসারদের অগ্রণী ভূমিকা নিশ্চিত করা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করে দেন, পুলিশের ওপর আক্রমণ কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না এবং এ ব্যাপারে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা তিনি প্রদান করেন।