প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 29, 2025 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 17, 2025 ইং
জলে গেল মাঠ ভরাটের সাড়ে তিন লাখ টাকা মনিরামপুর মুক্তেশ্বরী ডিগ্রি কলেজ

মনিরামপুর প্রতিনিধি : যশোরের মনিরামপুরে মুক্তেশ্বরী ডিগ্রি কলেজের মাঠ ভরাটের তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা জলে গেছে। টিআর ও কলেজ ফান্ডের টাকা বরাদ্দ দিয়ে নদী খুঁড়ে বালু তুলে মাঠে ফেলার ১০-১৫ দিনের মধ্যে কলেজ মাঠে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে। এখন কলেজের মাঠে হাঁটু পানি জমেছে।এক ফুট পানি ঢুকে পড়েছে শ্রেণিকক্ষে।
স্থানীয়রা বলছেন, ইউএনও নিজে এই কলেজের সভাপতি। তিনি মোটা অংকের টাকা কলেজের মাঠ ভরাটের জন্য বরাদ্দ নিয়ে লোকভাড়া করে কলেজের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মুক্তেশ্বরী নদী খুঁড়ে বালু তুলে দায়সারা মাঠ ভরাটের কাজ করিয়েছেন। বরাদ্দের অর্থ নামমাত্র ব্যবহার করে বাকি টাকা লোপাটের অভিযোগ তাদের। যদিও ইউএনও নিশাত তামান্নার ভয়ে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছেন না।
অবশ্য কলেজের সভাপতি ইউএনও নিশাত তামান্না বলছেন, কোন অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই। আমি সরাসরি মাঠ ভরাটের কাজ তত্ত্বাবধান করিনি। সকল শিক্ষক মিলিতভাবে কলেজ উন্নয়নে কাজ করেছে। কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির মাধ্যমে কাজ হয়েছে। সব কিছুর হিসাব অধ্যক্ষর কাছে আছে।
ইউএনও বলেন, সমগ্র এলকাই পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য চেষ্টা করবো।
ভবদহের অঞ্চলভুক্ত হওয়ায় উপজেলার পাঁচবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত মুক্তেশ্বরী ডিগ্রি কলেজ মাঠ বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার শিকার হয়। জলাবদ্ধতার কারণে কলেজ মাঠ পানিতে ডুবে শ্রেণিকক্ষে পানি জমে থাকে। ফলে পাঠদান বাধাগ্রস্ত হয়। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় মুক্তেশ্বরী কলেজ মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর। সেই টাকা দিয়ে মাটি না কিনে মুক্তেশ্বরী নদী খনন করে বালু তুলে কলেজ মাঠে ফেলা হয়েছে। পরে কলেজ ফান্ড থেকে বালু তোলার কাজে আরও দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইউএনও নিশাত তামান্না।
বরাদ্দের সাড়ে তিন লাখ টাকায় মুক্তেশ্বরী কলেজ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পাঁচবাড়িয়া শ্মশানঘাটে মুক্তেশ্বরী নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তুলে পাকা রাস্তার পাশ দিয়ে পাইপ টেনে এনে মনিরামপুর-নওয়াপাড়া সড়ক টপকে ফেলা হয়েছে মুক্তেশ্বরী কলেজ মাঠে। নদীর বালুতে মাঠের কোথাও দুই ফুট আবার কোথাও পাঁচ ফুট উঁচু করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রমেন মণ্ডল।
স্থানীয়দের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পাঁচবাড়িয়া এলাকার এক ব্যক্তি ঘের কেটে কলেজ মাঠে মাটি দিতে চেয়েছেন। ঘের কাটার শর্তে কলেজের পক্ষ থেকে জমির মালিক কোন টাকা চাননি। শুধুমাত্র মাটি কাটা খরচের বিনিময়ে তিনি কলেজে মাটি দিতে চেয়েছেন। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাতে রাজি হয়নি। পরে ইউএনওর পরামর্শে নদীর বালু তুলে কলেজ মাঠে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, মাঠ আরও দুই ফুট ভরাট করলে জলাবদ্ধ হত না। নদীর বালু না তুলে বরাদ্দে সব টাকায় বালু কিনে দিলে পানি ঠেকানো যেত। কিন্তু সে পরিমান কাজ হয়নি। টাকা লুটপাট করা হয়েছে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রমেন মণ্ডল বলেন, সরকারি দেড় লাখ আর কলেজের দুই লাখ টাকা মোট তিন লাখ ৫০ হাজার টাকায় মুক্তেশ্বরী নদীর বালু তুলে কলেজ মাঠে দেওয়া হয়েছে। ইউএনওর পরামর্শে নদীর বালু তোলা হয়েছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে কলেজ মাঠে ও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে। আমরা ভবনের নিচ তলায় ক্লাস নিচ্ছি না। ইউএনওর সাথে কথা হয়েছে। তার পরামর্শে নতুন ভবন বরাদ্দ চেয়ে অধিদপ্তরে কাগজপত্র পাঠিয়েছি।
ছবি : পানিতে তলিয়ে আছে মুক্তেশ্বরী ডিগ্রি কলেজের মাঠ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ