স্বপ্নভূমি ডেস্ক : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সাপে কেটেছে এমন আশঙ্কায় হাসপাতালে নিয়ে আসা ১৬ মাস বয়সী শিশু ওয়াজিহা আয়াত এখন পুরোপুরি সুস্থ। তবে চিকিৎসকদের মতে, শিশুটিকে সাপে কাটেনি। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ৩ আগস্ট (শনিবার) দুপুর ১২টার দিকে। আয়াত কালীগঞ্জ পৌরসভার শিবনগর গ্রামের ইব্রাহিম খলিল ও উর্মি বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান। পরিবারের দাবি, আয়াতের বাম হাতে সাপে কামড়ের মতো একটি চিহ্ন দেখা গেলে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
আয়াতের দাদী সুফিয়া বেগম বলেন, “আমরা সাপটি চোখে দেখিনি, তবে কামড়ের মতো চিহ্ন দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিই। কিন্তু সাপে কাটার চিকিৎসা না দিয়ে ওরা সদর হাসপাতালে যেতে বলে। আমরা সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে মোটরসাইকেলে করে ঝিনাইদহ নিয়ে যাই।”
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শিশির কুমার ছানা জানান, “শিশুটির শরীরে সাপের কামড়ের আলামত মেলেনি। তবে পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত আতঙ্কিত ছিলেন। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সতর্কতামূলকভাবে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার করি।”
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. সুব্রত বলেন, “শিশুর শরীরে সাপে কামড়ানোর কোনো স্পষ্ট চিহ্ন ছিল না। বিষক্রিয়ারও কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবুও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে নিশ্চিত হয়ে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।”
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল ইসলাম বলেন, “আমরা শিশু আয়াতকে পর্যবেক্ষণ করে বুঝেছি তাকে সাপে কাটেনি। হাসপাতালে তখন পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনাম ছিল। তবে অ্যাম্বুলেন্স বাইরে থাকায় তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়া যায়নি। গুজবে কান না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি।”
এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, এটি ছিল ভ্রান্ত ধারণা—আয়াত এখন সম্পূর্ণ সুস্থ এবং সাপে কাটার বিষয়টি নিশ্চিত নয়।